নারীদের ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা,,,,,

whatsapp sharing button
messenger sharing button
print sharing button
copy sharing button

নারীদের ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা, ডা. ইমন ৫ দিনের রিমান্ডে

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন যাবত ইন্টার্ন নারী চিকিৎসকদের যৌন হয়রানি, শ্লীলতাহানি ও খারাপ আচরণ করার অভিযোগ ছিল। তবে নিজের আত্মসম্মানের ভয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় দিন দিন তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন। এমনকি নারীদের ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা লাগানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে ইমনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিন জনের নামে মামলা দায়ের করেন।

ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার লক্ষীখোলার হাসান আলীর ছেলে। ঘটনাটি নিয়ে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।

এদিকে মঙ্গলবার ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খান।

মঙ্গলবার সকালে ইমনে আদালতে প্রেরণের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সদর থানায় নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক জানান, ইমন দীর্ঘ দিন যাবত নারীদের সঙ্গে কুদৃষ্টিতে তাকাতেন। আবার অনেককেই ব্যাডটাচ করতেন। তাকে মৌখিকভাবে একাধিকবার বারণ করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। ইমনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জানান, রোববার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ৯০৭ নম্বর ওয়াশরুমে এক নারী চিকিৎসক স্পাই কলম ক্যামেরা দেখতে পান। তিনি ওই ক্যামেরাটি নিয়ে বের হলে ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমন ওই ক্যামেরাটি নিতে ধস্তাধস্তি করেন। ওই নারী চিকিৎসককে একটি কক্ষে আটকে রাখার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কলম ক্যামেরাটি ভেঙে ফেলেন। ইমনের বিরুদ্ধে বিগত ৫ বছর যাবত অন্যান্য ইন্টার্ন নারী চিকিৎসকদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ আছে।

রোববার রাতেই ওই নারী চিকিৎসক যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেন। সোমবার সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফকে সভাপতি করে ৫ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করেন হাসপাতালের পরিচালক।

সোমবার দুপুরে হাসপাতাল কক্ষে বিষয়টি জানার চেষ্টা করা হলে ইমনসহ পরিচালককে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন অন্যান্য চিকিৎসকরা। পুলিশের কাছে সোপর্দের আগে ইমনকে গণপিটুনি দেওয়া হয়।

টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক পাঁচ দিনেরই মঞ্জুর করেন।

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, ইমনকে ইন্টার্ন চিকিৎসক থেকে প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও স্বামী ইমনকে সমর্থন দেওয়ায় তার ইন্টার্ন চিকিৎসক স্ত্রীকেও সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। ইমনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

About SIAM AHAMMED

Check Also

আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বশেষ সমন্বয়ের পর মঙ্গলবার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *