পেটে ব্যথা, বদহজম, গ্যাস বা অস্বস্তি অনেকেই হালকা সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেন। কিন্তু চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, এই ছোট উপসর্গগুলোই কোলন ক্যানসার বা পাকস্থলীর ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। সময়মতো শনাক্ত না করলে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে এবং চিকিৎসা কঠিন হয়ে যায়।
কেন পাকস্থলীর ক্যানসার বিপজ্জনক?
পাকস্থলীর ক্যানসার শুরুতে স্পষ্ট উপসর্গ দেখায় না। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ক্যানসারের চিকিৎসায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে, কিন্তু সময়মতো শনাক্তকরণ এখনও একটি বড় বাধা। শুরুতে পেটের হালকা অস্বস্তি, হজমের সমস্যা বা অল্প ওজন কমে যাওয়া—এইসবই অনেক সময় সাধারণ সমস্যা মনে হয়।
সতর্ক হওয়ার জন্য লক্ষ্য রাখুন
যদি নিচের উপসর্গগুলো দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:
দীর্ঘদিন ধরে পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি
নিয়মিত বদহজম, গ্যাস বা পেট ফুলে থাকা
হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা খাবারে আগ্রহ কমে যাওয়া
মলের সঙ্গে রক্ত দেখা
কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া দীর্ঘ সময় চলা
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই উপসর্গগুলোকে সাধারণ সমস্যার মতো দেখলেই সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ হয় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
ঝুঁকি কমানোর জন্য দৈনন্দিন অভ্যাস
পাকস্থলী ও অন্ত্র সুস্থ রাখতে কিছু অভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ:
প্রতিদিন ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া
পর্যাপ্ত পানি পান করা
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করা
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা
এছাড়া ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান বা অত্যধিক প্রসেসড খাবারও এড়িয়ে চলা উচিত। সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি, যেকোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
পেটের হালকা সমস্যা কখনওই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে উপসর্গ যদি দীর্ঘদিন ধরে থাকে বা সাধারণ চিকিৎসায় সারে না, তাহলে এটি বড় রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগ থেকেও বাঁচার সম্ভাবনা অনেকটাই বাড়ে।
dailymeghna.com