পিরিয়ডের সময় নারীদের শরীরে হরমোনজনিত নানা পরিবর্তন ঘটে, যার প্রভাব পড়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর। এই সময় সামান্য অসতর্কতা বা ভুল অভ্যাস থেকেও দেখা দিতে পারে সংক্রমণ, অস্বস্তি কিংবা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি। অথচ পিরিয়ডকালীন স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে এখনও অনেকের মধ্যেই রয়েছে ভুল ধারণা ও অবহেলা।
নির্দিষ্ট সময় অন্তর প্যাড বা ট্যাম্পন বদলান: একই প্যাড বা ট্যাম্পন দীর্ঘক্ষণ ব্যবহার করলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জমতে পারে। এর ফলে ইউরিন ইনফেকশন বা ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিসের মতো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা অন্তর প্যাড বা ট্যাম্পন পরিবর্তন করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
সুগন্ধিযুক্ত প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলুন: রক্তের গন্ধ ঢাকতে অনেকেই সুগন্ধিযুক্ত স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করেন। কিন্তু এতে থাকা ক্যামিক্যাল ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়া তৈরি করতে পারে। তাই সম্ভব হলে গন্ধহীন ও ত্বকবান্ধব প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন।
পার্সোনাল হাইজিনে বিশেষ নজর দিন: পিরিয়ডের সময় নিয়মিত গোসল করা, গোপনাঙ্গ পরিষ্কার রাখা এবং খুব আঁটসাঁট অন্তর্বাস না পরা জরুরি। এসব বিষয়ে গাফিলতি করলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
যারা মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহার করেন, তাদের জন্য পরিচ্ছন্নতা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবার ব্যবহারের আগে ও পরে কাপ ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে, নইলে ইনফেকশনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
মাসিক শুরু ও শেষ হওয়ার তারিখ লিখে রাখা বা ট্র্যাক করা প্রয়োজন। এতে সাইকেল নিয়মিত আছে কিনা, কোনো অস্বাভাবিকতা হচ্ছে কিনা সেগুলো সহজেই বোঝা যায়।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন: এই সময়ে শরীরে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং যোনিতে অতিরিক্ত শুষ্কতা বা অস্বস্তি হওয়ার সম্ভাবনাও কমে।
dailymeghna.com