লক্ষ্মীপুরে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুই পক্ষের দায়ের করা মামলায় মোট ৩৮৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে জামায়াতের মামলায় ১৭০ জন এবং বিএনপির মামলায় ২১৭ জন আসামি রয়েছেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোরশেদ আলম জনকণ্ঠকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াত ও বিএনপি উভয় পক্ষই পৃথকভাবে মামলা করেছে। মামলাগুলোর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলার অভিযোগ এনে জামায়াতের যুব বিভাগের চরশাহী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি হেজবুল্লাহ সোহেল বাদী হয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৬০ জনকে আসামি করা হয়। অপরদিকে একই ঘটনায় চরশাহী ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী কামাল হোসেন বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বটগাছতলা এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের ৮ জনকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, জামায়াতের নেতাকর্মীরা নারীসভা ও টিসিবির মালামাল দেওয়ার কথা বলে ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছিলেন। এতে বাধা দিলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ রেজাউল করিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁদের মহিলা কর্মীদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। বিষয়টি মীমাংসা হওয়ার পরও বিএনপির নেতাকর্মীরা পুনরায় হামলা চালায় বলে দাবি করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ভোটারদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত। তিনি বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি শুধু বিএনপির নয়, আহত জামায়াত নেতাকর্মীদেরও হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন বলেও জানান।
প্রসঙ্গত, শনিবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান লক্ষ্মীপুরের চারটি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনি আচরণবিধি অবহিতকরণ সভা করেন। সেখানে চরশাহী ইউনিয়নের সংঘর্ষের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। সভায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক উভয় পক্ষকে সংযত থাকার পাশাপাশি নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি মো. মোরশেদ আলম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
dailymeghna.com