আবাসিক হোটেলে ছাত্রদের অভিযান, তরুণীর অভিযোগ ঘিরে কুমিল্লায় চাঞ্চল্য
কুমিল্লা শহরের একটি আবাসিক হোটেলে শিক্ষার্থীদের অভিযানের ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত একটি তরুণীর দাবি, তিনি কুমিল্লা সরকারি কলেজের ছাত্রী। এই দাবিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে নানা গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হঠাৎ করে কয়েকজন যুবক হোটেলটির সামনে জড়ো হন। এরপর তারা ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন কক্ষে খোঁজখবর নিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠে। এ সময় উপস্থিত লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কেউ কেউ ঘটনাটি মোবাইলে ধারণ করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি ক্রমেই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়লে হোটেল এলাকায় ভিড় জমে যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ওই তরুণী একাধিকবার অস্বস্তিকর অবস্থায় রয়েছেন এবং মানসিকভাবে বিচলিত। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তাকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও চাপ তৈরি হয়। অনেকে দাবি করেন, তরুণী নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও তাকে কথা বলতে বাধাগ্রস্ত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলে এক ধরনের ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
এদিকে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোর কারণে বিষয়টি দ্রুত জনমনে আলোড়ন তোলে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই কীভাবে এ ধরনের অভিযান চালানো হলো। কেউ কেউ এটিকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা বলেও মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এমন ঘটনায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে একজন তরুণীকে এভাবে প্রকাশ্যে অপদস্থ করার আশঙ্কা তৈরি হয় বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই বলছেন, ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য বা ভিডিও ছড়ানো অত্যন্ত অনুচিত ও ক্ষতিকর।
একই সঙ্গে হোটেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, আবাসিক হোটেলগুলোতে নিরাপত্তা ও নিয়ম-শৃঙ্খলা নিশ্চিত না থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি আরও বাড়তে পারে। এলাকাবাসী দ্রুত একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, যাতে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হয়।
এ ঘটনায় কলেজের নাম উঠে আসায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বলছে, সত্য না জেনে কাউকে দোষারোপ করা উচিত নয়। অন্যদিকে অনেকে দাবি করছেন, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এখন সবার প্রশ্ন—ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তরুণীর দাবি কতটা সত্য এবং কে বা কারা এই ঘটনার জন্য দায়ী। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করা। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও উঠেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও ঘটনার প্রভাব এখনও এলাকায় রয়ে গেছে।
real source or form copy we did –

dailymeghna.com