নবজাতকের চোখে পানি ঝরার কারণ

নবজাতকের চোখে পানি ঝরার কারণ

নবজাতকের চোখে পানি ঝরার কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ আছে। জন্মের পরপরই কোনো কোনো নবজাতকের চোখে পানি ঝরতে দেখা যায়। যদিও চোখ লাল, ব্যথা, যন্ত্রণা বা অন্য কোনো উপসর্গ থাকে না। পরবর্তী সময়ে হয়তো চোখে পিচুটি জমতে দেখা যায়। এটি এক ধরনের জন্মগত ত্রুটি। যাকে বলা হয় নেত্রনালির সমস্যা বা কনজেনিটাল ডেক্রিয়োসিস্টাইটিস।
নেত্রনালি হলো চোখের সঙ্গে নাকের এক ধরনের সংযোগ, যার মাধ্যমে চোখের অতিরিক্ত পানি নাকের ভেতরে নিষ্কাশিত হয়। নাকের গরম নিশ্বাস-প্রশ্বাসে এটি বাষ্পীভূত হয়ে যায়। জন্মের সময় বা তার অব্যবহিত পরে এ সংযোগ নালি বা নেত্রনালিটি পরিস্ফুটিত হয়ে থাকে। কোনো কারণে এর ব্যত্যয় হলে চোখের পানি নাকের ভেতর নিষ্কাশিত হতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত চোখের পানি ঝরতে থাকে। জন্মের পরে সাধারণত এক বছরের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে নেত্রনালিটি পুষ্ট হয়ে যায় ও সমস্যাটি নিজ থেকেই ভালো হয়ে যায়।
আবার নেত্রনালিতে সমস্যা ছাড়াও কয়েকটি কারণে চোখে অতিরিক্ত পানি তৈরি হতে পারে। যেমন চোখে বালুকণা বা কিছু পড়লে, চোখ উঠলে, চোখ আঘাতপ্রাপ্ত হলে, কর্নিয়ায় সংক্রমণ হলে পানি পড়ার সমস্যা দেখা যায়। কর্নিয়ার সংক্রমণ নবজাতকের ক্ষেত্রে খুব কম দেখা যায়। নবজাতকের একধরনের জন্মগত গ্লুকোমা আছে, যেখানে চোখের পানি পড়া সমস্যা থাকতে পারে।
কীভাবে বুঝবেন ও যা করবেন
নেত্রনালির সমস্যা থাকলে জন্মের পর এক চোখে বা দুই চোখে সারাক্ষণ পানি ঝরে। এর সঙ্গে চোখে পিচুটি জমতে দেখা যায়। চোখ লাল হয় না এবং শিশু হাত দিয়ে চোখ রগরানো বা আলো দেখলে চোখ বন্ধ করে ফেলা ইত্যাদি করে না।
চোখে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ দরকার হয়। চোখের কোণে ম্যাসাজ (লেক্রিমাল ম্যাসাজ) করতে বলা হয়। চোখ ওঠায় কারণে সাময়িক পানি পড়ার সঙ্গে চোখ লাল হয় ও পিচুটি জমে। তবে সার্বক্ষণিক পানি পড়ার সমস্যাটি অনুপস্থিত থাকে। কেবল অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ দিয়ে চিকিৎসা করলে চোখ ওঠা ভালো হয়ে যায়। এই দুটি পানি পড়ার সমস্যা নিয়ে উদ্গ্রীব হওয়ার কিছু নেই। তবে কর্নিয়ার সংক্রমণ ও কনজেনিটাল গ্লুকোমা খুব জটিল দুটি বিষয়। এ ক্ষেত্রে নবজাতক বারবার চোখে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে। শিশুটি আলোর দিকে তাকাতে পারে না, চোখ সরিয়ে ফেলে। চোখের কালো অংশটি আকারে বড় বা ঘোলা বা মাঝখানে সাদা দাগ দেখা দিতে পারে।
নেত্রনালীর সমস্যায় করণীয়
লেক্রিমাল ম্যাসাজ। এটি একধরনের এক্সারসাইজ। প্রথমে তর্জনীর মাথা শিশুর চোখের কোনায় এমনভাবে রাখতে হবে যেন ওপরে ও নিচের উভয় পাতার খানিকটা অংশ আঙুলের নিচে চাপা পড়ে। এরপর হালকা চাপ দিতে হয় যেন আঙুলের টিপ নাকের পাশের হাড়ে অনুভব করে। এমতাবস্থায় আঙুল জায়গায় রেখে চাপটা ছেড়ে দিতে হবে। এভাবে একনাগারে ৮-১০ বার স্ট্রোক করতে হবে, দিনে ৩-৪ বার। কয়েক মাস একনাগারে লেক্রিমাল ম্যাসাজে অনেক সময় সমস্যাটি সেরে যায়।
লেক্রিমাল ম্যাসাজে কাজ না হলে ও শিশুর বয়স এক বছর হয়ে গেলে লেক্রিমাল প্রোবিং ও লেক্রিমাল প্রোবিং ব্যর্থ হলে শিশুর বয়স সাত-আট বছর পূর্ণ হলে নেত্রনালীর অপারেশন করাতে হয়।

 

About SIAM AHAMMED

Check Also

যে র’ক্তের গ্রুপে স্ট্রো’ক হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি

যে র’ক্তের গ্রুপে স্ট্রো’ক হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি নিজস্ব প্রতিবেদক: রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ব্রেন স্ট্রোকের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *