বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এইচআইভি বা এইডস সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের জনস্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নতুন করে ১ হাজার ৮৯১ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ২১৯ জন। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, নতুন আক্রান্তদের ৪২ শতাংশই অবিবাহিত তরুণ-তরুণী, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশেরও বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ, অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক এবং একাধিক সঙ্গীর সংস্পর্শে আসার মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ তরুণদের এই মরণব্যাধির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে যশোর অঞ্চলে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে। যশোরের সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, কৌতূহলবশত ভুল পথে পা বাড়ানোই শিক্ষার্থীদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এছাড়া যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক ট্যাবু ও পরিবারে খোলামেলা আলোচনার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইউএনএইডসের তথ্যমতে, ২৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে, যা সচেতনতার অভাবে প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদের মতে, প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং সামাজিক বন্ধন শিথিল হওয়ার ফলে তরুণদের আচরণে পরিবর্তন আসছে। অন্যদিকে ভাইরাসবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম আশ্বস্ত করেছেন যে, সময়মতো শনাক্ত হলে এবং নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করলে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। কিন্তু সামাজিক লজ্জার ভয়ে অনেকেই সময়মতো পরীক্ষা করাতে অনীহা প্রকাশ করেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই মহামারি রুখতে কেবল চিকিৎসা যথেষ্ট নয়; বরং ব্যাপক সচেতনতা প্রয়োজন। স্কুল পর্যায়ে প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষা চালু করা, ইনজেকশনের সুচ ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা এবং নিরাপদ জীবনযাপনের গুরুত্ব প্রচার করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
dailymeghna.com