
কক্সবাজারের রামুতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শক্তিশালী অবিস্ফোরিত বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এই বোমার ওপর দাঁড়িয়ে গত দেড় দশক ধরে স্থানীয়রা নিয়মিত কাপড় ধুয়ে আসছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের লট উখিয়ারঘোনা তচ্ছাখালী এলাকার একটি পুকুরপাড়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ভারি ধাতব বস্তু পড়েছিল। প্রথমদিকে কেউ সেটিকে গুরুত্ব দেয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, এটি কোনো পুরনো লোহার জিনিস।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, তখন বুঝিই নাই এটা বোমা। সামনে পাখার মতো অংশ ছিল, একটি শেকল আর থালার মতো একটি লকার ছিল। সেগুলো ভেঙে ভাঙারির কাছে বিক্রি করে দিয়েছি।
স্থানীয় মুমিনুল হক জানান, এত বছর ধরে মানুষ এখানে যাতায়াত করেছে, কাপড় ধুয়েছে। আল্লাহর রহমতে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর আগে পুকুর সংস্কারের সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বস্তুটিকে পানি থেকে তুলে পাড়ে রেখে দেন। এরপর সেটিকে ঘিরেই চলতে থাকে দৈনন্দিন কাজ। বিশেষ করে নারীরা নিয়মিত সেখানে কাপড় ধুতে আসতেন।
গত বৃহস্পতিবার রামুর ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বোমা সদৃশ বস্তুটির ছবি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার জাপানি বোমা হতে পারে এবং এতে বিস্ফোরক রয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করা জরুরি। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এক সচেতন নাগরিক পুলিশকে অবহিত করেন।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি বড় অবিস্ফোরিত বোমা। বোমাটিকে নিরাপদ স্থানে রেখে চারপাশ ঘিরে দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীকে জানানো হলে তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যামুনিশন বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌসের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেনা সূত্রে জানা গেছে, বোমাটির ওজন আনুমানিক ৩০০ থেকে ৩২০ কেজি, দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৯ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস প্রায় ১১৭ সেন্টিমিটার।
বর্তমানে বোমাটির চারপাশে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। নিষ্ক্রিয় না করা পর্যন্ত এলাকাবাসীকে ওই স্থান থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
dailymeghna.com