
আপনার শিশুসন্তান পুষ্টিকর খাবার খেতে চায় না। খাবার দেখলেই বিরক্ত হয়ে যায়। আবার কেউ থালা দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। এর ফলে পুষ্টিতে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেয়। শরীরের ওজন কমে যায়। সে জন্য চিন্তার ভাঁজ চওড়া হয় বাবা-মায়ের।
কিন্তু খাবার টেবিলে আপনার শিশুসন্তানের সঙ্গে জোর যুদ্ধ চলে। যুদ্ধংদেহী রূপ নেন মা। আর তার ফলে খাবারের প্রতি আরও অনীহা তৈরি হয় আপনার সন্তানের। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দুই থেকে সাত বছর বয়সি শিশুর মতামত গঠন হয়। তাই সেই সময় তারা খাবারদাবার খাওয়া নিয়ে সবচেয়ে বেশি নিজের মত ফলানোর চেষ্টা করে।
তাই এ বয়সে সন্তানকে জোর করবেন না। খাবার নিয়েও জোরজুলুম করবেন না। এর পরিবর্তে তাকে বুঝিয়ে খাদ্যাভ্যাস তৈরি করুন। ছোট বলে তার ওপর কিছু চাপিয়ে দেবেন না। মনে রাখবেন, জোর করে কোনো কিছু সম্ভব নয়। তাকে বুঝিয়ে-শুনিয়ে শেখানোর চেষ্টা করুন। তাতেই সুফল পাবেন।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, আপনার শিশুসন্তানকে খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার কয়েকটি টিপস—
১. আপনার শিশুসন্তানের জন্য আলাদা করে খাবার তৈরি করবেন না। তারচেয়ে পরিবারের সবার জন্য তৈরি করা খাবার দিন।
২. একা তাকে খাওয়াতে বসবেন না। সবার মাঝে টেবিলে বসে খেতে দিন।
৩. আপনার শিশুসন্তানের পাশে বসে আপনিও একইরকম খাবার খান। শিশুকে যে সবজি খেতে দিচ্ছেন, সেই সবজি আপনিও খান।
৪. আপনার শিশুর সঙ্গে খেতে বসে সবজি নিয়ে আলোচনা করুন। তাকে বোঝান সবজির গুণাগুণ। এসব সবজি খাবার কীভাবে শরীরকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে, তা বুঝিয়ে বলুন।
৫. স্বাস্থ্যকর সবজি আরও সুস্বাদু করে রান্না করুন। কোনো ঝামেলা না করেই দেখবেন আপনার সন্তান দিব্যি খাচ্ছে।
৬. এখন বাজারে নানা ছাঁচ পাওয়া যায়। তা কিনে নিন। এবার যে খাবারগুলো সম্ভব, সেগুলো ওই ছাঁচে ফেলে থালায় দিন। তাতে আরও সুন্দর হয়ে উঠবে আপনার শিশুর থালা।
৭. শিশুরা বড়দের অনুকরণ করে থাকে। তাই তার পাশে বসে খাওয়ার সময় থালা পরিষ্কার করে খান। তাতে সে-ও দেখবেন আপনাকে দেখে গুছিয়ে খাওয়া শিখেছে।
dailymeghna.com