নীরবে পুরুষত্ব কেড়ে নিচ্ছে যে অভ্যাসগুলো—জানলে আজই বদলাবেন জীবনযাপন”
📰 বিস্তারিত সংবাদ (Deep & Long News)
পুরুষদের শারীরিক শক্তি, মানসিক দৃঢ়তা, যৌন সক্ষমতা এবং আত্মবিশ্বাসের পেছনে যে হরমোনটি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে, সেটি হলো টেস্টোস্টেরন। এই হরমোনই একজন পুরুষের কণ্ঠস্বর ভারী হওয়া, পেশি গঠন, দাড়ি-গোঁফের বৃদ্ধি, যৌন ইচ্ছা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা তৈরি করে। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাস নীরবে এই গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দিচ্ছে, যার ভয়াবহ প্রভাব অনেকেই বুঝতে পারছেন না।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. নোবেল জানিয়েছেন, বর্তমানে তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষদের মধ্যে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। এর পেছনে প্রধান কারণগুলো মূলত জীবনযাপনের সঙ্গে জড়িত।
🕛 রাত জাগা: হরমোন ধ্বংসের নীরব শত্রু
যারা নিয়মিত রাত জাগেন, দেরিতে ঘুমান বা মোবাইল-স্ক্রিনে দীর্ঘ সময় কাটান, তাদের শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা প্রাকৃতিক ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায় এবং টেস্টোস্টেরন উৎপাদন ব্যাহত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র কয়েকদিন কম ঘুমালেই টেস্টোস্টেরনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
😟 দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ: কর্টিসলের আঘাত
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, কাজের চাপ, পারিবারিক সমস্যা কিংবা আর্থিক টেনশন শরীরে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন বাড়িয়ে তোলে। কর্টিসল সরাসরি টেস্টোস্টেরনের বিরুদ্ধে কাজ করে। দীর্ঘদিন মানসিক চাপে থাকলে পুরুষদের মধ্যে ক্লান্তি, যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া, আত্মবিশ্বাস হ্রাস এবং হতাশা দেখা দেয়।
⚖️ অতিরিক্ত ওজন: হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে
যাদের শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমে, বিশেষ করে পেটের মেদ, তাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। ইস্ট্রোজেন মূলত নারী হরমোন, যা পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন কমিয়ে দেয়। ফলে পেশি ক্ষয়, শক্তি কমে যাওয়া এবং যৌন দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।
🍬 ডায়াবেটিস: নীরবে ক্ষতি বাড়ায়
ডায়াবেটিস আক্রান্ত পুরুষদের শরীরে ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়, যা হরমোন উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে, পাশাপাশি যৌন সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
📱 অশ্লীল কন্টেন্ট দেখা: সবচেয়ে অবহেলিত কারণ
ড. নোবেল বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত অশ্লীল কন্টেন্ট দেখার অভ্যাস পুরুষদের মস্তিষ্কের ডোপামিন সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে বাস্তব জীবনের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়, যৌন শক্তি দুর্বল হয় এবং ধীরে ধীরে টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক নিঃসরণ ব্যাহত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি মানসিক ও শারীরিক উভয় সমস্যার জন্ম দেয়।
⚠️ বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
চিকিৎসকদের মতে, টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়াকে অবহেলা করলে ভবিষ্যতে হৃদরোগ, ডিপ্রেশন, বন্ধ্যত্ব এবং স্থায়ী যৌন সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। তাই সময়মতো জীবনযাত্রার পরিবর্তন, পর্যাপ্ত ঘুম, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি।
dailymeghna.com