যে ৩টি লক্ষণে বুঝবেন আপনার কিডনির অবস্থা ভালো নেই!

যে ৩টি লক্ষণে বুঝবেন আপনার কিডনির অবস্থা ভালো নেই!

কিডনি আমাদের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা রক্ত পরিশোধনের মাধ্যমে শরীর থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত তরল অপসারণ করে। কিডনি রোগকে প্রায়শই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়, কারণ গুরুতর ক্ষতি না হওয়া পর্যন্ত এর লক্ষণগুলো সহজে প্রকাশ পায় না। তবে কিছু প্রাথমিক সতর্কতা বা লক্ষণ রয়েছে, যা দেখলে বোঝা যেতে পারে আপনার কিডনির কার্যকারিতা ভালো নেই এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

কিডনির অবস্থা ভালো না থাকার বা এর কার্যকারিতা কমে যাওয়ার ৩টি প্রধান লক্ষণ নিচে তুলে ধরা হলো:

১. প্রস্রাবে পরিবর্তন

কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে মূত্র উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। প্রস্রাবের মাত্রায় বা ধরনে পরিবর্তন আসা কিডনি সমস্যার অন্যতম প্রধান লক্ষণ।
প্রস্রাবের ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি: বিশেষ করে রাতের বেলা ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া।

প্রস্রাবে রক্ত বা ফেনা: প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া (যা কিডনির ফিল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়) অথবা প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখা যাওয়া (যা প্রস্রাবে প্রোটিন বা অ্যালবুমিনের উপস্থিতির লক্ষণ)।
প্রস্রাবের পরিমাণ হ্রাস: আগের চেয়ে প্রস্রাবের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া।

২. অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও দুর্বলতা

স্বাস্থ্যকর কিডনি শরীরে এরিথ্রোপোয়েটিন (Erythropoietin) নামক হরমোন তৈরি করে, যা লোহিত রক্তকণিকা (RBC) উৎপাদনে সাহায্য করে। কিডনির কার্যকারিতা কমলে এই হরমোনের উৎপাদনও কমে যায়, যার ফলে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে।
তীব্র ক্লান্তি: স্বাভাবিক বিশ্রাম নেওয়ার পরেও শরীর অস্বাভাবিকভাবে ক্লান্ত ও দুর্বল বোধ করা।

কম মনোযোগ: রক্তস্বল্পতার কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়, ফলে মনোযোগের অভাব, স্মৃতিশক্তি হ্রাস বা মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

৩. শরীর ফুলে যাওয়া (ইডিমা)

কিডনির অন্যতম কাজ হলো শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল ও সোডিয়াম অপসারণ করা। কিডনি সঠিকভাবে কাজ না করলে এই তরল শরীর থেকে বের হতে পারে না এবং টিস্যুতে জমতে শুরু করে।
হাত-পা ও মুখ ফোলা: বিশেষ করে পা, গোড়ালি, হাত এবং চোখের চারপাশ ফুলে যাওয়া বা ইডিমা দেখা দেওয়া।

শ্বাসকষ্ট: কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তরল ফুসফুসে জমে যায়, যার ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে।
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত একজন নেফ্রোলজিস্ট বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ শনাক্ত করা গেলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এর গুরুতর পরিণতি রোধ করা সম্ভব

About SIAM AHAMMED

Check Also

যে র’ক্তের গ্রুপে স্ট্রো’ক হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি

যে র’ক্তের গ্রুপে স্ট্রো’ক হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি নিজস্ব প্রতিবেদক: রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ব্রেন স্ট্রোকের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *