গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল শিশুর জন্য কতটা নিরাপদ?

গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল: শিশুর জন্য কতটা নিরাপদ?

গর্ভকালীন সময়ে প্যারাসিটামল সেবন।

গর্ভাবস্থায় কোন ওষুধ কতটা নিরাপদ— এ নিয়ে মায়েদের উদ্বেগ নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অটিজম, বিহেভিয়ারাল ডিজঅর্ডার ও এডিএইচডি–এ আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এই উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। কেন এমন সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের জন্ম হচ্ছে, বা কোন মায়েদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি— তার সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনো বিজ্ঞান পুরোপুরি দিতে পারেনি।

এই অনিশ্চয়তার জায়গা থেকেই নানা আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম হয়। বিভিন্ন গবেষণা থেকে ভিন্ন ভিন্ন দাবি সামনে আসে, যদিও সেগুলোর বড় একটি অংশেরই শক্ত বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি নেই। এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি ল্যানসেট অবস্টেট্রিকস অ্যান্ড গাইনোকোলজি–তে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

প্যারাসিটামল নিয়ে আশঙ্কা কোথা থেকে?

কিছুদিন আগে এমন একটি ধারণা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে যে, গর্ভাবস্থায় মায়েরা বেশি প্যারাসিটামল সেবন করলে সন্তানের অটিজমের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

আমেরিকার আইকাহন স্কুল অব মেডিসিন অ্যাট মাউন্ট সিনাই–সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা একটি সমীক্ষার ভিত্তিতে এই দাবি সামনে আনেন।

তাদের মতে, গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল সেবন ও শিশুদের নিউরোডেভেলপমেন্টাল ঝুঁকি—যেমন অটিজম বা এডিএইচডি—এর মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক থাকতে পারে। এমনকি এই ধারণার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।

তবে এই আশঙ্কাকে কার্যত নাকচ করে দিয়েছে ল্যানসেট অবস্টেট্রিকস-এর সাম্প্রতিক গবেষণা।

অটিজম কী?

বর্তমানে অটিজম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) মস্তিষ্কের বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি অবস্থা। এতে আক্রান্ত শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক মেলামেশায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়।

অনেক ক্ষেত্রে সমাজ ও অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগে অনীহা তৈরি হয়। কথা বলা, অনুভূতি প্রকাশ বা সামাজিক সংকেত বুঝতে অসুবিধা হয়। ‘স্পেকট্রাম’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে কারণ—এই অবস্থার লক্ষণ ও তীব্রতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে; এক শিশুর উপসর্গ আরেক শিশুর সঙ্গে নাও মিলতে পারে।

এডিএইচডি কী?

এডিএইচডি (Attention Deficit Hyperactivity Disorder)–এর লক্ষণ সাধারণত শৈশব থেকেই প্রকাশ পেতে শুরু করে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক জীবন পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

এটি একটি স্নায়বিক বিকাশজনিত সমস্যা, যেখানে মনোযোগ ধরে রাখা, অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করা ও আচরণে সংযম বজায় রাখতে অসুবিধা দেখা দেয়।

এডিএইচডি পুরোপুরি সারিয়ে তোলার কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে ওষুধ ও আচরণগত থেরাপির মাধ্যমে এর লক্ষণগুলো অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

কাদের ওপর গবেষণা করা হয়েছে?

ল্যানসেট অবস্টেট্রিকস-এর গবেষণায় গর্ভাবস্থায় প্যারাসিটামল সেবনের সঙ্গে শিশুদের অটিজম, এডিএইচডি বা বুদ্ধিবিকাশজনিত সমস্যার কোনো সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

এই গবেষণায়—

২ লাখ ৬২ হাজারের বেশি শিশুকে অটিজমের ঝুঁকি মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়

৩ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি শিশুকে এডিএইচডির জন্য বিশ্লেষণ করা হয়

এবং প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার শিশুকে বুদ্ধিবিকাশজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ করা হয়

সব তথ্য বিশ্লেষণ করার পর গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, গর্ভাকালীন সময়ে মায়ের প্যারাসিটামল সেবন এসব সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায় না।

About SIAM AHAMMED

Check Also

যে র’ক্তের গ্রুপে স্ট্রো’ক হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি

যে র’ক্তের গ্রুপে স্ট্রো’ক হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি নিজস্ব প্রতিবেদক: রক্তের গ্রুপের সঙ্গে ব্রেন স্ট্রোকের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *